"পটল চিংড়ি" রেসিপি। অনুষ্ঠান বাড়ির স্বাদে।(Pointed Gourd With Prawn Carry Recipe In Bengali):

 নমস্কার বন্ধুরা। আশাকরি সকলে খুব ভালো আছেন? রান্না গুঞ্জনে আপনাদের সকলকে স্বাগত। রোজকার মতোই আরও একটা নতুন রেসিপি নিয়ে আমি আপনাদের কাছে চলে আসলাম। আজ আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করবো "পটল চিংড়ি" রেসিপি। একদম অনুষ্ঠান বাড়ির মতো "পটল চিংড়ি" তৈরি করতে চাইলে এই রেসিপিটি অবশ্যই ফলো করুন। জানি অনেকেই এই রেসিপিটি খুব ভালো বানান। তবু যারা নতুন রাধুনি তাদের জন্য রেসিপিটি আরও একবার শেয়ার করছি। এটি নতুন কোনো রেসিপি নয়, বানানোও যেমন সহজ, খেতেও তেমনই সুস্বাদু হয়। তাহলে চলুন রেসিপিটি শুরু করি।

"পটল চিংড়ি" রেসিপি। অনুষ্ঠান বাড়ির স্বাদে।(Pointed Gourd With Prawn Carry Recipe In Bengali):

পটল চিংড়ি" রেসিপি। অনুষ্ঠান বাড়ির স্বাদে।(Pointed Gourd With Prawn Carry Recipe In Bengali):

"পটল চিংড়ি" রেসিপির জন্য আমাদের যা যা উপকরণ লাগছে:

  • পটল - ৫০০ গ্রাম (দু টুকরো করে কাটা)
  • আলু - ৩ টি মাঝারি সাইজের (মাঝারি ডুমো করে কাটা)
  • চিংড়ি মাছ - ৩০০ গ্রাম (মাঝারি বা বড়ো সাইজের)
  • টকদই - ২ টেবিল চামচ 
  • পেঁয়াজ কুচি - ৩ টি মাঝারি সাইজের 
  • আদা ও রসুন বাটা - ১ চা চামচ করে 
  • নারকেল বাটা - ২ চা চামচ 
  • পোস্ত বাটা - ১ চা চামচ 
  • কাঁচা লঙ্কা বাটা - ৪ টি
  • হলুদ গুড়ো - ১.৫ চা চামচ 
  • শুকনো লঙ্কা গুড়ো - ১/২ চা চামচ 
  • জিরে গুড়ো - ১/২ চা চামচ 
  • ধনে গুড়ো - ১ চা চামচ 
  • গোটা জিরে - ১/২ চা চামচ 
  • এলাচ ও লবঙ্গ - ৩ টি করে 
  • দারচিনি, শুকনো লঙ্কা ও তেজপাতা - ২ টি করে 
  • সরষের তেল - ৫ টেবিল চামচ 
  • লবন - স্বাদমতো 
  • চিনি - ১/২ চা চামচ (ঐচ্ছিক)
  • ঘি - ১ চা চামচ 
  • গরম মশলা গুড়ো - ১/২ চা চামচ 


আরও পড়ুন:👉এচোড় চিংড়ি" রেসিপি। মাংসের স্বাদে।

এবার দেখে নেওয়া যাক রান্নার প্রণালী:

১. প্রথমে চিংড়ি মাছ পরিষ্কার করে ধুয়ে নুন-হলুদ মাখিয়ে রাখুন অন্তত দশ মিনিট। এবার কড়াইয়ে ৩ টেবিল চামচ তেল গরম করে প্রথমে আলু সামান্য লবন ও হলুদ গুড়ো দিয়ে ভেজে নিন। এরপর পটলও সামান্য লবন দিয়ে ভেজে তুলে রাখুন। ওই তেলে এবার চিংড়ি মাছ ভেজে তুলে নিন।

২.  কড়াইয়ে আরও ২ টেবিল চামচ তেল দিয়ে গোটা জিরে, শুকনো লঙ্কা ও গোটা গরম মশলা ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজ কুচি ভেজে নিন। পেঁয়াজ একটু ভাজা হলে এরমধ্যে আদা ও রসুন বাটা দিয়ে কষিয়ে নিন। আদা-রসুনের কাঁচা গন্ধ চলে গেলে টমেটো কুচি ও স্বাদমতো লবন দিয়ে টমেটো গলে যাওয়া পর্যন্ত মশলা কষতে থাকুন। 

৩. এবার একটি বাটিতে টক দই, ১ চা চামচ হলুদ গুড়ো, নারকেল ও পোস্ত বাটা, বাকি গুড়ো মশলা ও চিনি দিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে দিয়ে দিন। আঁচ মাঝারি-কমে রেখে মশলা ধীরে ধীরে কষিয়ে নিন। প্রয়োজনে অল্প জল দিন এতে মশলা পুড়ে যাবে না। মশলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে ভাজা আলু, পটল ও চিংড়ি মাছ দিয়ে কিছু সময় কষিয়ে নিয়ে ঝোলের জন্য দেড় কাপ গরম জল দিন। 

৪. আঁচ হাইতে রেখে ঝোল ভালো ভাবে ফুটে উঠলে ঢাকা দিয়ে কম আঁচে রান্না করুন ৫-৭ মিনিট। সবশেষে ঝোল ফুটে ঘন হয়ে এলে লবন চেক করে নিন এবং ঘি ও গরম মশলা দিয়ে মিশিয়ে গ্যাস বন্ধ করে ঢাকা দিয়ে রেখে দিন আরও কিছু সময়। 

গরম ভাত, পোলাও বা ফ্রাইড রাইসের সাথে পরিবেশন করুন "পটল চিংড়ি" রেসিপি। 


পটল চিংড়ি" রেসিপি। অনুষ্ঠান বাড়ির স্বাদে।(Pointed Gourd With Prawn Carry Recipe In Bengali):

আরও পড়ুন:👉ছোটো চিংড়ি মাছ দিয়ে পালং শাকের ঘন্ট" রেসিপি।

দেখে নিন "পটল চিংড়ি" রেসিপি নিয়ে কিছু টিপস:

১. চিংড়ি মাছ পরিষ্কার করার সময় অবশ্যই পিঠের ওপর দিকে কালো সুতোর মতো ময়লাটা বের করে ফেলে দেবেন।

২. পটল ভাজার সময় হলুদ ব্যবহার করবেন না এতে তেল আরও কালো হয়ে যাবে। 

৩. কাঁচা লঙ্কার পরিবর্তে পুরো রান্নাটাই শুকনো লঙ্কার গুড়ো  ব্যবহার করতে পারেন। রান্না আরও কালারফুল করতে চাইলে একটু কাশ্মীরি লঙ্কার গুড়ো ব্যবহার করুন। 

৪. রেসিপিতে নারকেল বাটার পরিবর্তে নারকেল দুধ দিতে পারেন। এক্ষেত্রে ১/৩ কাপ দুধ ব্যবহার করবেন। 


এবার দেখে নেবো পটল ও চিংড়ি মাছের কী কী উপকারিতা রয়েছে:

১. চিংড়ি মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমান প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২, আয়রন, আয়োডিন, জিঙ্ক, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও সেলেনিয়াম যা আমাদের শরীর গঠন করে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ত্বক ও চুল ভালো রাখে।

২. পটলে প্রচুর ফাইবার থাকায় এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ও হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এতে রয়েছে ভিটামিন সি ও অ্যন্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বক ভালো রাখে ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়াও পটল আমাদের লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে।


উপসংহার:

"পটল চিংড়ি" রেসিপি একটি সুস্বাদু বাঙালি রান্না। এটা শুধু সুস্বাদুই নয় পুষ্টিকরও বটে। সঠিক তেলমশলায় তৈরি করতে পারলে রোজকার খাদ্য তালিকায় এই রেসিপি রাখা যেতেই পারে। রেসিপি নিয়ে বিস্তারিত জানুন এবং বাড়িতে অবশ্যই একবার বানিয়ে দেখুন। আশাকরি রেসিপিটি আপনাদের ভালো লাগবে। 

আজ তাহলে এই পর্যন্ত। আবার আগামীকাল কথা হবে নতুন একটি রেসিপি নিয়ে। সকলকে শুভ বিদায়।  




Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
sr7themes.eu.org