দুর্গাপূজো স্পেশাল ঠাকুর বাড়ির রান্না " পোস্ত বড়ার দম"(Posto Borar Dom Recipe In Bengali)

 দুর্গা পূজোর পেটপুজোতে বাড়িতে কী কী মেনু রাখবেন ভাবছেন? তাহলে ঠাকুর বাড়ির রকমারি পদ দিয়েই এবার পূজোর ভুড়িভোজ সারতে পারেন।যারা একটু স্বাস্থ্য সচেতন তাদের অনেকেই বাইরের খাবার পছন্দ করেন না। অথচ পূজোর কটাদিন একটু ভালোমন্দ খাবার তো খেতেই হবে।পুজোর সময় খাওয়া-দাওয়া ও ঘোরাঘুরি দুটোই সমান তালে চলতে থাকে। তাই সময় বাঁচাতে চটজলদি বাড়িতে বানিয়ে ফেলুন ঠাকুর বাড়ির স্পেশাল মেনু "পোস্ত বড়ার দম"।চলুন দেখে নিই কিভাবে বানাই রেসিপিটি।

দুর্গাপূজো স্পেশাল ঠাকুর বাড়ির রান্না " পোস্ত বড়ার দম"(Posto Borar Dom Recipe In Bengali):


দুর্গাপূজো স্পেশাল ঠাকুর বাড়ির রান্না " পোস্ত বড়ার দম"

"পোস্ত বড়ার দম" রেসিপির প্রয়োজনীয় উপকরণ:

  • পোস্ত - ২০০ গ্রাম 
  • মিহি করে কুচানো পেঁয়াজ - ২ টি মাঝারি
  • পেঁয়াজ বাটা - ২ টি মাঝারি 
  • আদা বাটা - ১/২ টেবিল চামচ 
  • হলুদ গুড়ো - ১ টেবিল চামচ 
  • লংকা গুড়ো - ১/২ টেবিল চামচ 
  • জিরে গুড়ো - ১ চা চামচ 
  • আলু - ২ টো মাঝারি (ডুমো করে কাটা)
  • কাঁচা লংকা - ২-৩ টি
  • লবন ও চিনি - স্বাদমতো 
  • গরম মশলা - ১/২ চা চামচ 
  • ঘি - ১ টেবিল চামচ 
  • সরষের তেল - প্রয়োজন মতো 
  • বেসন - ২ টেবিল চামচ 


  আরও পড়ুন :👉পনির কোপ্তা কারি রেসিপি

প্রণালী :

১. প্রথমে কাঁচা লংকা ও পোস্ত মিহি করে বেটে নিন।এবার ১ টেবিল চামচ পোস্ত বাটা তুলে রাখে বাকি পোস্ত বাটা, বেসন,পেঁয়াজ কুচি,সামান্য হলুদ গুড়ো ভালো ভাবে মেখে গোল গোল বড়ার আকারে ডুবো তেলে ভেজে নিন। 

দুর্গাপূজো স্পেশাল ঠাকুর বাড়ির রান্না " পোস্ত বড়ার দম"

২. কড়াইয়ে ৩ টেবিল চামচ তেল রেখে বাকি তেল তুলে নিন। এবার ওই তেলে আলু ভেজে তুলে নিন। বাকি তেলে পেঁয়াজ বাটা, আদা বাটা দিয়ে কষিয়ে নিয়ে এরমধ্যে পোস্ত বাটা, হলুদ, লংকা ও জিরে গুড়ো দিয়ে আরও একটু কষিয়ে নিন। 

দুর্গাপূজো স্পেশাল ঠাকুর বাড়ির রান্না " পোস্ত বড়ার দম"

৩. মশলা কষে তেল ছাড়তে শুরু করলে অল্প পরিমাণে গরম জল ও পরিমাণ মতো লবন দিয়ে ৫ মিনিট ফুটিয়ে পোস্তর বড়া গুলো দিয়ে দিন। ঢাকা দিয়ে কম আঁচে ২ মিনিট রান্না করুন। নামানোর আগে স্বাদমতো চিনি, ঘি ও গরম মশলা গুড়ো দিয়ে নামিয়ে গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন "পোস্ত বড়ার দম"।


পোস্ত বড়ার দম রেসিপির প্রয়োজনীয় টিপস: 
পোস্ত ভিজিয়ে রাখুন – অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে পোস্ত ভিজিয়ে নিলে বাটা মসৃণ হয়।
বড়ার মিশ্রণে বাঁধন – বাটার সাথে সামান্য বেসন বা ময়দা দিলে বড়া ভালোভাবে বাঁধবে ও ভাজার সময় ভেঙে যাবে না।
কম আঁচে ভাজুন – বড়া ক্রিস্পি ও সোনালি রঙের করতে ধীরে ধীরে কম আঁচে ভাজা উচিত।
ঘি-এর ব্যবহার – রান্নার শেষে অল্প ঘি দিলে স্বাদ দ্বিগুণ হবে।চাইলে পেঁয়াজ ছাড়া রেসিপিটি করতে পারেন। 


পোস্ত বড়ার দম রেসিপির উপকারিতা:
পোস্তের গুণাগুণ – শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে, অনিদ্রা কমাতে সাহায্য করে এবং হজমশক্তি বাড়ায়।
প্রোটিনের উৎস – পোস্তে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও আয়রন থাকে যা শরীরের শক্তি ও হাড়ের জন্য উপকারী।


উপসংহার: 

"পোস্ত বড়ার দম "একেবারে বাঙালির রান্নাঘরের ঐতিহ্যবাহী নিরামিষ পদ। এর সহজ উপকরণ ও অনন্য স্বাদ একে করে তুলেছে ভাতের সাথে আদর্শ জুটি। স্বাস্থ্য ও স্বাদের দিক থেকে এই রেসিপি সবার জন্যই উপকারী এবং নিয়মিত মেনুতে রাখার মতো একটি পদ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
sr7themes.eu.org